ভুতের গল্প : পরিত্যাক্ত বাড়ী

ভুতের গল্প

ভুতের গল্প নিয়ে আমি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান।

গল্পটি আমি একটি মজিদের মুয়াজ্জিন সাহেব এর মুখ থেকে শুনেছি। ঘটনাটি তার সাথেই ঘটেছে। চলুন শুরু করা যাক।

বিশেষ কারণে আমি তার আসল নামটি বাদ দিয়ে একটি ছদ্ম নাম ব্যবহার করছি, “কবির”।

কবির সাহেব এর বয়স তখন ১৫ থেকে ১৭ বছর হবে। মাদ্রাসায় পড়াশুনার সুবাধে চাঁদপুরে অবস্থান করতেন। বলে রাখা ভালো বর্তমানে তার বয়স ৫২ বছর হবে।

হঠাৎ করে কবির সাহেব এর এক সহপাঠী অসুস্থ হয়েছে তাকে দেখতে যাবেন তিনি। গ্রামের খালের পাড় ঘেষে আাঁকা-বাকা মেঠো পথ, দুই ধারে ঘন জঙ্গল আবার মাঝে মাঝে ফসলের মাঠ এবং অল্প অল্প বসত বাড়ীও আছে। এমন একটি পথ ধরে হাটতে হাটতে এমন একটি যায়গায় কবির সাহেব পৌছালেন, যেখানে খালের একটি বাঁক এবং রাস্তাটিও বাঁকা হয়েছে। কিন্তু তার সাথে সাথে একটি পার্শ্ব রাস্তাও রয়েছে যেখান দিয়ে গন্তব্যে যেতে খানিকটা পথ বেশি হাটতে হয়। বেলা তখন অনুমান সকাল ১০টা হবে। হঠাৎ পথে একজনের সাথে দেখা হলে তিনি এই পার্শ্ব রাস্তার কারণ জানতে চাইলেন, জনৈক লোকটি বললেন, ঐ রাস্তায় যেওনা ওখানে ভয় আছে। কবির সাহেব এর মনটা যেন কেমন একটু হয়ে উঠল, দিনের বেলা ভয় থাকে নাকি? আবার এই বয়সে মনের মাঝে কত রকম দুষ্টু বুদ্ধির উদয় হয়। তাই তিনি ভাবলেন আমি তো মাদ্রাসায় পড়াশুনা করি তাছাড়া আমার শরীর বন্ধক ও রয়েছে তারপরেও আসল কথা হচ্ছে এখন দিন ভয় আমার কী করতে পারে? এই ভেবে কবির সাহেব যাত্র শুরু করলেন এক অনিশ্চিত পথে যেখানে কোন মানুষ যেতে ভয় পায় এমনকি কোন গবাদী প্রানীও যদি ঐ পথে চলে যায় তাহলে তাকে আর খুজতেও যায় না কেউ।

কবির সাহেব মনে সাহস করে হাটতে হাটতে সামনে এগিয়ে গেলেন, অনেক দিন কেউ এই পথ দিয়ে হাটা-চলা না করায় পথটি বেশ দুর্গমও হয়ে গেছে, বন্য লতা এসে যেন চেপে ধরেছে। হঠাৎ তার চোখে পড়ল একটি পুরাতন বাড়ী। দেখে মনে হচ্ছে এই বাড়ীতে কয়েকশত বছর হয়েগেছে কেউ আসেনা। নারিকেল গাছগুলি অনেক উঁচু নিচ থেকে উপর দেখতে হলে মাথার টুপি পড়ে যাওয়ার উপক্রম।

ভুতের গল্প

ভুতের গল্প

নারিকেল গাছ থেকে নারিকেল পড়ে চাড়া গজিয়ে ও বড় বড় হয়ে গেছে। বাড়ীর সামনে আসতেই মনে হচ্ছে যেন, গাছগুলি ফাল্গুনের মৃদু বাসানে ডালপালা নেড়ে বুঝাতে চায় যে, বাবা তুই তারাতারি এখান থেকে চলে যা। আশে পাশে অনেক ধরনের গাছও রয়েছে, গাছগুলি এমভাবে চেঁপে ধরছে যেন সূর্যের আলো ঠিকমত প্রবেশ করতে পারে না। এমনি সময় কবির সাহেবের প্রস্রাব চেঁপেছে। তিনি এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখলেন বাড়ীর সামনেই খালের পাড়ে একটি বিশাল শিমুল তুলা গাছ। যে গাছে শেকড় মাটির উপরেই কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ হাত দূর পর্যন্ত চলে গিয়েছে। আর শিকড়গুলো এত চ্যাপ্টা যেন, ৬-৭ হাত হবে। কবির সাহেব মনের খুশিতে সেই গাছের গোড়ায়

ভুতের গল্প

শেকরের ফাঁকে প্রশ্রাব করতে বসে পড়লেন। প্রশ্রাব অর্ধেক শেষ হতে না হতেই গাছ থেকে উচ্চ আওয়াজে হো হো হো করে বিকট একটি হাসির আওয়াজ শুনতে পেলেন কবির সাহেব। যেন ট্রেনের হর্ণকেও হার মানায়। ভয়ে কবির সাহেব উপরের দিকে তাকিয়ে যা দেখতে পেলেন তা দেখার জন্য তিনি মোটেই প্রস্তুত ছিলেন না। বিশ্বাস করুন প্রিয় পাঠক এই ঘটনা বর্ণনা করার সময় কবির সাহেবের গায়ের লোমগুলি খাড়া হয়ে গিয়েছিল যা আমি নিজ চোখে দেখেছি।

রোমাঞ্চকর ভূতের গল্প

ভুতের গল্প

যাই হোক, কবির সাহেব উপরের দিকে তাকাতেই দেখতে পেলে ইয়া বড় একটি কালো প্রতিকৃতি যা উঁচু শিমুল গাছের মগডালে রক্তবর্ণ অগ্নিশিখাময় দুটি চোখ যেন ক্রোধে ফেটে পরছে। কুচকুচে কালো প্রতিকৃতির চোখের নিচেই যেন ৩-৪ হাত লম্বা এক রক্তবর্ণ জিহ্বা বের করে উচ্চস্বরে আওয়াজ করছে। ততক্ষণে কবির সাহেবের প্রশ্রাব বেগ যেন মুহুর্তেই মলিন হয়ে গেল কোন চিন্তা ভাবনা না করেই ভুতুরে বাড়ী থেকে পিছন ফিরে দিলেন এক ভো-দৌড়। এক দৌড়ে অন্তত ১০০ গজ দূরে গিয়ে থামলেন এবং পিছনে তাকিয়ে সেই প্রতিকৃতিটি আবার দেখতে পেলেন। ততক্ষণে তার শরীরে যেন কয়েক টন ওজন অনুভব করলেন। একটি পা তুলেও আর সামনে এগোতে পারছিলেন না কবির সাহেব। কিন্তুত তখনও তিনি জ্ঞান হারালেন না, তিনি মনে মনে দোয়া কালাম সহ কোরানের আয়াত পাঠ করতে লাগলেন। অবশেষে কিছুক্ষণ পরে হাপাতে পাহাতে ক্লান্ত হয়ে সামনে দিকে হাটতে হাটতে এক বৃদ্ধ লোককে মাঠে কাজ করতে দেখতে পেলেন। ঐ বৃদ্ধ লোকটি কবির সাহেবকে দেখে বলেন, কিরে বাবা কি হয়েছে তোমার? কবির সাহেবের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি শুনে বৃদ্ধ লোকটি বললেন তুমি কেন গেছ ওখানে? ওখানে কেউ গিয়ে ফিরে আসতে পারে না। বৃদ্ধ লোকটি তখন আরো বলেনে, অনেক আগের কথা আমাদের জন্মের আগে, এই বাড়ীতে একটি মেয়ে কলেরায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায় এবং তাকে খালের পাড়ে মাটি দেওয়া হয়। তার কয়েকদিন পরেই বাড়ীর লোকজন দেখতে পায় যে, সেই মেয়েটি রান্না ঘরে বসে পা চুলার মধ্যে দিয়ে এবং বসে বসে এক হাত দিয়ে গাছ থেকে ডাল ভেঙ্গে এনে চুলায় আগুন জ্বালিয়ে রান্না করতেছে। এই দৃশ্য দেখার পর ঐ বাড়ীর সকল লোক ঘর-বাড়ী ছেরে পালিয়ে গেছে, আর কোনদিন আসেনাই। তারপর যে ওখানে যায় তাকে অনেক সমস্যায় পড়তে হয় এমনিক করুন মৃত্যু পর্যন্ত হয়।

আজ তুমি খুব বেঁচে গেছ। আর কোনদিন এখানে আসতে দুঃসাহস করবে না। ততক্ষণে কবির সাহেবের ভয় একটু কমে গেছে।

প্রিয় পঠাক বন্ধুরা এতক্ষণ ধৈর্য ধরে এত বড় একটি লেখা ভুতের গল্প পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এই ঘটনাটি বিশ্বাস করা বা না করা সম্পূর্ণই আপনার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যপার তবে আমি যেভাবে ঘটনাটি শুনেছি হুবহু সেভাবেই উপস্থাপন করলাম। আপনাদের কেমন লেগেছ দয়াকরে মন্তব্য করতে ভুলবেন না।

বি: দ্র: এই গল্পের ছবিগুলি ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করা দয়া করে কেউ এই ছবিগুলিকে বাস্তব ছবি মনে করে ভুল বুঝবেন না।

এমন সুন্দর সুন্দর আরো ভুতের গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.